অভিনেত্রী বাঁধনের মেয়ের দায়িত্ব অবশেষে যাকে দিল আদালত!

বাঁধনের মেয়ের দায়িত্ব- লাক্সতারকা ও অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন তার একমাত্র মেয়ে মিশেল আমানি সায়রার অভিভাবকত্ব পেলেন। আজ সোমবার ঢাকার ১২তম সহকারী জজ পারিবারিক আদালতের বিচারক ইসরাত জাহান শুনানী শেষে এ আদেশ দেন।

গত ৩ আগস্ট মেয়ে মিশেল আমানি সায়রার মেয়ের অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য আদালতে মামলা করেন বাঁধন।

আদেশে বিচারক উল্লেখ করেন, কন্যাশিশুর অভিভাবক হচ্ছেন মা। মায়ের জিম্মায়ই মেয়ে থাকবে। কন্যার সর্বোত্তম মঙ্গলের জন্য মায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

বাবা মাসে কেবল দুই দিন মায়ের বাড়িতে গিয়ে মায়ের উপস্থিতিতে মেয়েকে দেখে আসবেন। কন্যাশিশুকে নিয়ে মা দেশের ভেতরে এবং বাইরে যেতে পারবেন। যেহেতু মা-ই কন্যাশিশুর অভিভাবক।

আদেশ শোনার পর বাঁধন আদালত থেকে বেরিয়ে কোর্টে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, মেয়ের অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য গত ৯ মাস আমি অনেক সংগ্রাম করেছি।

মেয়েকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছি। কিন্তু আজ আমি নিশ্চিন্ত। আদালত সাধারণ কাস্টডি নয়, বরং মেয়ের সম্পূর্ণ গার্ডিয়ানশিপ আমাকে দিয়েছেন। এতে আমি দারুণ খুশি হয়েছি।

বাঁধন বলেন, আমাদের বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ টাকা। আমি তা দাবি করিনি। মেয়ের কোনো ভরণপোষণের খরচ তার বাবা এতদিন দেননি। কোনো খোরপোষ দেননি।

অভিনেত্রী বাঁধনের মেয়ের দায়িত্ব অবশেষে যাকে দিল আদালত!

আমিও চাইনি। এসব কথা আজ আমি আদালতে বলেছি। বাবার কাছে ভরণপোষণ, এটা প্রত্যেক মেয়ের অধিকার, মেয়ের দেখাশোনা করা প্রত্যেক বাবার দায়িত্ব। এই কাজটা এত দিন আমিই করে এসেছি।

বাঁধন আরো বলেন-সায়রার বাবা মেয়ের পাসপোর্ট আটকে রেখেছেন। যদি সেটা ফেরত না দেন, তাহলে আদালত আমাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন আদালত। তারপর নতুন পাসপোর্ট দেবার জন্য পাসপোর্ট অফিসে আদালতের পক্ষ থেকে চিঠি ও আদেশ পাঠিয়ে দেয়া হবে।

এদিন মামলার বিবাদী মাশরুর সিদ্দিকী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার আইনজীবী ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন মাশরুর সিদ্দিকী ও আজমেরী হক বাঁধন। তাদের একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।

২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর বিয়ে বিচ্ছেদ হয় এ দম্পতির। এরপর গত বছর আগস্ট মাসে বাঁধন অভিযোগ করেন, মেয়ে সায়রাকে নিয়ে যান তার প্রাক্তন স্বামী।

এরপর এক রকম জোর করে তাকে কানাডা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। সায়রা এখন কোথায় থাকবে, মা হিসেবে তার অধিকার পাওয়ার জন্য গত বছর ৩ আগস্ট মেয়ের কাস্টডি চেয়ে মামলা করেন বাঁধন।

Hits: 32

Facebook Comments

error: Content is protected !!