দুই মেয়েকে নিয়ে ভয়ে লুকিয়ে আছেন একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা…

র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানিয়েছেন তাঁরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সময় পার করছেন।

অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন আয়েশা বেগম বলেন, স্কুলপড়ুয়া দুই কিশোরী মেয়ে নিয়ে চট্টগ্রামে লুকিয়ে আছি। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সময় পার করছি।

আয়েশা বলেন, তিন নারী (তিনি ও দুই মেয়ে) ছাড়া ঘরে আর কেউ নেই। মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে যে থানা-আদালতে দৌড়াদৌড়ি করব, সেই সুযোগ ও পরিস্থিতি কোনোটি নেই। মেয়ে দুটো সারাক্ষণ বাবার জন্য কান্নাকাটি করছে, ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছা যাচ্ছে, কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

আয়েশার প্রশ্ন, ইয়াবা ব্যবসায়ীর তকমা দিয়ে একরামুলকে হত্যা করা হলেও টেকনাফে কি আদৌ ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ হবে? ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত আসল হোতাদের কি গ্রেপ্তার কিংবা আইনের আওতায় আনা হবে?

তিনি বলেন, একরামুলকে হত্যার বিনিময়ে যদি টেকনাফকে ইয়াবামুক্ত অঞ্চল ঘোষণা দেওয়া যেত, তবে মনকে কিছুটা সান্ত্বনা দিতে পারতাম। এখন সময় যত গড়াচ্ছে, হতাশা তত বাড়ছে।

একরামুলকে হত্যা করে সরকারের মাদকবিরোধী সফল অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য সীমান্তের কেউ চক্রান্তে লিপ্ত ছিল কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি।

এদিকে, রোববার বিকাল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আয়েশা বেগমের কাছে একটি ফোন আসে।

আয়েশা বেগম বলেন, যিনি ফোন করেছিলেন তার নাম-পরিচয় মনে নেই। তবে ফোনকারী নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত জানতে আয়েশার সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করা হবে।

গত ২৬ মে বন্দুকযুদ্ধে একরাম নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বাহিনীটির দাবি, ইয়াবা চালানের লেনেদেনের খবর পেয়ে অভিযানে যায় একটি দল। সেসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় র‌্যাব।

মাদক চক্রের অন্যরা পিছু হটলে একরামুল হকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, ছয়টি গুলি ও পাঁচটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

তবে একরামুলের পরিবারের দাবি, তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩১ মে টেকনাফে এক সংবাদ সম্মেলন করেন একরামুলের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম সাংবাদিকদের কাছে একটি অডিও রেকর্ড তুলে ধরেন। সেই রেকর্ডটি খতিয়ে দেখছে র‌্যাব।

একরামুল নিহতের বিষয়ে গত ২ জুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, কোনো ভালো কাজ, বৃহৎ কাজ, মহৎ কাজ করতে গেলে দুই-একটি ভুল হতে পারে।

এ ছাড়া ৩ জুন রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশরী শাখায় এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান একরামুল হকের পরিবারের দেওয়া অডিও রেকর্ডটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অডিও ক্লিপটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Hits: 17

Facebook Comments

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!