রাশেদাকে গণধর্ষণের পর হত্যা, ইট বেঁধে লাশ নদীতে

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় উদ্ধার অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহতের নাম রাশেদা বেগম (৩০)। তিনি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় পুলিশ আবারক মিয়া নামক এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। আবারক মিয়া রোববার মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিতে জানায়, গণধর্ষণ শেষে রাশেদাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়। আবারক মিয়া রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের ছিককা গ্রামের মুজাম্মিল মিয়া ওরফে মজু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে রাশেদা বেগমের (৩০) মোবাইল ফোনের সূত্রে পরিচয় ছিল আবারক মিয়া ও মৌলভীবাজারের অপর এক যুবকের সঙ্গে।

এর সূত্রধরে বেশ কয়েকবার তাদের দেখা-সাক্ষাতও হয়েছে। ৩০ মে তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মৌলভীবাজার আসেন রাশেদা বেগম।

সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের ওই যুবককে নিয়ে রাজনগর উপজেলা পরিষদের সামনে আসেন রাশেদা। এ সময় ওই যুবক আবারক মিয়াকেও ফোন করে রাজনগর নিয়ে আসেন। রাশেদাকে নিয়ে তারা উপজেলা পরিষদের পার্শ্ববর্তী মাছুয়া নদীর ধার ঘেঁষে পশ্চিম দিকে যেতে থাকেন।

এ সময় দক্ষিণ খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশে নদীর ধারে এসে ওই যুবক রাশেদাকে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে সে রাজি না হওয়ায় তারা ধর্ষণ করে।

বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে ধর্ষকরা। পরে লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে নদীর অল্প পানিতেই তলিয়ে দেয় রাশেদার লাশ।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাজনগর থানার এসআই জিয়াউল ইসলাম ও এসআই রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আবারক মিয়াকে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার থেকে গ্রেফতার করে। রোববার আদালতে স্বীকারোক্তির পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

শুক্রবার রাতে রাশেদা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের খবর পেয়ে নিহতের ভাই রাজনগর থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজনগর থানার এসআই জিয়াউল ইসলাম জানান, আসামিরা লাশ পানিতে তলিয়ে গুম করার চেষ্টা করে।

রাজনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক বলেন, এ ঘটনা রাশেদার ভাই আবদুল খালিদ বাদী হয়ে রাজনগর থানায় মামলা করেছেন। নিহতের ভাইয়েরা লাশ নিয়ে গেছে।

Hits: 53

Facebook Comments

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!