বউ কে দিয়ে ব্যবসা চলছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাড়িতে…

খুব ধীরে ধীরে পিছনে তাকালাম। -তোর তো খুব বাড় বেড়েছে দেখছি উফফ আমার আরো সাবধানে হাটাঁ উচিত ছিল। এখন সকলের সামনে আমি কি করব। -আমার পরিবারের সকলকে নিজের পায়ের নিচে দাবিয়ে রাখতে চাইছিস,আমার গায়ে হাত তুলছিস,এখন আবার আমাকে ধাক্কা মারছিস। কি ইচ্ছে হচ্ছে কি তোর। – রুশা এসব কি (রশীদ কাকা) আমি কিচ্ছু বলতে পারছি না। এখানে আমার পরিবারের সকলে উপস্থিত। তাই ওনার সামনে গেলাম। -প্লিজ আজ আমার পরিবারের সকলে এখানে এসেছে, আপনি এরকম করবেন না। আমি ইচ্ছে করে করিনি, আসলে আমার খেয়াল ছিল না।

আপনার যদি কিছু বলার থাকে তাহলে ওনারা চলে যাওয়ার পর বলবেন। আমি আপনার কাছে হাত জোড়____ -চুপ একদম চুপ, আজ কথা আমি বলব -রাজ এটা কিভাবে কথা বলছিস ওনাদের সাথে -কেন অযথা আপনি কথা বলছেন জেঠিমা। ওনারা একটু দেখুক ওনারা মেয়েকে কেমন শিক্ষা দিয়েছে -আচ্ছা জামাই বাবা একটু বলবে কি হয়েছে (রুশার মা) -কাকে জামাই বলছেন আমাকে,আপনারা ইচ্ছে করে আপনাদের মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিয়েছেন। আপনারা আমাকে ঠকিয়েছেন -রাজ____ -নাহ আংকেল আজ শুধু আমি বলব,আর কেউ নয়। কেউ একটা কথা বললে আমার এই মুখ তোমরা আর কখনো দেখতে পাবে না। -বাবা আমাদের মেয়ে কি অন্যায় কিছু করেছে(রুশার বাবা) -আপনারা বলছেন ন্যায়-অন্যায়ের কথা। নিজের বড় মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার নাম করে, একটা গাইয়া মেয়েকে আমার সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন। আমার তো মনে হয়,আপনার পরিবারের সকলে মেয়েদের নিয়ে ব্যবসায় বসেছেন। এক মাল দেখিয়ে, ডেলিভারীর সময় অন্য মাল দেন -চুপ করো। অনেকক্ষণ ধরে তোমার বাজে কথা শুনছি, কি মনে করেছ তোমার সাথে বিয়ে না হলে আমরা আমাদের মেয়েকে বিয়ে দিতে পারতাম না (ছোট কাকা) -এই কথা বলার না কোন অধিকার আছে আপনার, না আমি আপনাদের এসব বাজে প্রশ্নের জবাব দেব। -প্লিজ চুপ করুন আপনি, একটু দয়া করুন আমা_____ কথা শেষ হওয়ার আগে রাজ রুশার গালে থাপ্পড় মেরে রুশাকে সিড়িঁ থেকে ফেলে দিল।রুশার কপাল ফেটে রক্ত পড়ছে -এই থাপ্পড় টা আজকে মারার জন্যই আমি সেদিন চুপ করে ছিলাম। -মা তোমরা সবাই এখান থেকে চলে যাও -এটা তুমি কি বলছ বউমা -হ্যাঁ মা। কাকী বাবা আর মাকে এখান থেকে নিয়ে যাও -কেন ওনারা একা যাবেন কেন তুই কি এখানে এখনো থাকবি নাকি -মা আমার কছম রইলো চলে যাও এখান থেকে। যদি কখনো শুনতে পাও যে আমি আর বেচেঁ নেই তবুও তোমরা এ বাড়িতে আসবেনা। তোমরা যা চেয়েছো তাই হয়েছে, এখন আমি যা চাই তোমরাও তাই করো। চলে যাও চলে যাও। মা হয়ত কিছু বলতে চেয়েছিল কিন্তু বাবার জন্য বলতে পারে নি -তাই হবে রে মা তাই হবে (রুশার বাবা) তারপর ওনারা সবাই চলে গেল। -রাজ তুই এটা কি করলি, তোর বাবা যদি আজ এখানে থাকত তাহলে তোকে এ বাড়ি থেকে বের করে দিত। আমি আর কিছু বললাম না চুপ করে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম। তারপর আয়নার সামনে গিয়ে দাড়াঁলাম। আচ্ছা আমি কি দেখতে এতই খারাপ নাকি। তা যদি না হয়, তাহলে আমি কি পড়ালেখা

জানিনা বলে আমি গাইয়া। কিন্তু আমি তো পড়ালেখা করতে চেয়েছিলাম। শুধু মাত্র এই একটা ঝড় ই তো আমার জীবনটা লন্ড-ভন্ড করে দিল। তাহলে এখানে আমার দোষ টা কোথায়, কোথায় । এই মেয়ে দরজা খোল,দরজা খোল বলছি। রুশা শুনেও চুপ করে বসে রইল। কিছুক্ষণ পর রুশা তার সব জিনিসপত্র নিয়ে রাজের রুম থেকে বেরিয়ে পড়ল। রাজ তখন ড্রইং রুমে বসে ছিল। -বউমা -মা আমাকে নিচে কোথাও থাকার ব্যবস্থা করে দিন -এই মেয়ে যে আরো কত নাটক করবে কে জানে (ভাবী) -হাউ ডেয়ার ইউ। আমার ব্যাপার এ কথা বলার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে -ওম্মা এই বেয়াদব মেয়ে দেখছি আবার মুখে মুখে কথা ও বলছে। দেখেছ রাজ তোমার মা তোমার জন্য কেমন বউ নিয়ে এসেছে। -কাকে কি বলছেন আপনি। আমি এই মুহূর্ত থেকে আর কাউকে আমার স্বামী বলে মানিনা আমার মুখে এই কথা শুনে সবাই অবাক হয়ে গেল। -তাহলে তো তোর এই বাড়িতে থাকার ও দরকার নেই (রাজ) -সেটা ঠিক করে দেওয়ার আপনি কে? আমি কারোর কাছ থেকে কোনো উপদেশ শুনতে চাই না। বাড়িটা বাবার আর মায়ের। তাই কারোর কথায় এখানে আমি থাকবোও না,আবার যাবো ও না। চলুন মা। মা আমাকে একটা নিচের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দিলো। -মা আপনি কোন চিন্তা করবেন না, ওনার রুম থেকে চলে এসেছি বলে যে,আমি আপনাকে দেওয়া কথাও ভুলে গেছি সেটা কিন্তু নয় -আমার ছেলে টা কেন যে আজ পাগলের মতো আচরণ করল কে জানে -ওনি হয়ত ওনার রাগ কমানোর জন্য ই এসব করেছেন,আর হ্যাঁ মা বাবাকে এসব কথা বলবেন না -আমি জানি না রে মা,আমি কিচ্ছু জানি না আজ বাবা-মাকে এভাবে অপমানিত হতে দেখে মনেও একটু ও শান্তি পাচ্ছি না,ছি ছি। ৪দিন পর… এই ৪দিনে একবার ও আমি ওনার চোখের সামনে যায়নি। কিন্তু আজ সকালে হঠাৎ করে ওনার মুখোমুখি পড়ে গেলাম। রাগে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে। হঠাৎ ওনি বলে উঠলেন- -আজ পুরো দিনটাই খারাপ যাবে আমি কিছু বললাম না,রান্না ঘরে চলে গেলাম। রাজবাবু আজ নাস্তা না করেই অফিসে চলে গেলেন। আমি চা বানিয়ে সবার জন্য নিয়ে যাব ঠিক এমন সময় রুম থেকে চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেয়ে দ্রুত ভেতরে গেলাম। গিয়ে দেখলাম মা সিড়িঁ থেকে পড়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলেছে। সবাই মিলে তাড়াতাড়ি মা কে নিয়ে হাসপাতালে চলে গেলাম। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার সাহেব এসে বললেন- -ওনার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, এখনি রক্ত দিতে হবে। আমি আর কিছু না ভেবে রক্ত দিতে রাজি হয়ে গেলাম। তখন ডাক্তার সাহেব আমাকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে রক্তের গ্রুপ ম্যাচ করিয়ে, রক্ত দিতে নিয়ে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যে রাজবাবু ও অফিস থেকে চলে এলেন। -ভাবী মা কেম

আছে -এখনো জানিনা। ডাক্তার কিছু বলেনি সবাই মিলে অপেক্ষা করতে লাগলাম। হসপিটালে যাওয়ার পর থেকে রাজবাবু আমাকে কিছুক্ষণ পর পর দেখছেন, বুঝলাম না কেন। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার সাহেব বাইরে এলেন। -ডক্টর, ডক্টর আমার মা কেমন আছেন -ভয়ের কোনো কারণ নেই,তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ -থ্যাংক ইউ ডক্টর, থ্যাংক ইউ -ইটস ওকে ১দিন পর মাকে নিয়ে আমরা সবাই বাড়ি ফিরে এলাম। মায়ের এই অবস্থার কথা শুনে বাবাও ঢাকা থেকে চলে এল। ২দিন পর… আমি যেই মায়ের জন্য চা নিয়ে যাবো ঠিক ঐ সময় দেখলাম রাজবাবু তার মায়ের রুমে ঢুকছে। -মা আসতে পারি -হ্যাঁ বাবা আয় আমি পর্দার আড়ালে গিয়ে দাড়াঁলাম। -এখন কি অবস্থা মা তোমার শরীরের -হ্যাঁ ভালো -আচ্ছা সেদিন কি করে এতবড় দুর্ঘটনা ঘটল বলো তো? -আর বলিসনা,উপর থেকে নামার সময় সিড়িঁতে পানি ছিল যে সেটা খেয়াল করিনি,তারপর আর কি পিছলা খেয়ে পড়ে গেলাম। -কিহ -হ্যাঁ -আসলে মা পানি গুলো ওখানে আমি ই ফেলেছিলাম -মানে -আসলে আমি পানি গুলো ইচ্ছে করেই ওখানে ফেলেছিলাম রুশার জন্য। আমি জানতাম যে কিছুক্ষণ পর রুশা সবার জন্য চা নিয়ে উপরে যাবে, আর তখনই হয়ত…. কথাটা শোনার সাথে সাথে আমার হাত থেকে চায়ের গ্লাস টা নিচে পড়ে গেল। আওয়াজ শুনতে পেয়ে দুজনেই আমার দিকে ফিরে তাকাল -বউমা আমি আর ওখানে দাড়াঁতে পারলাম না। নিজের রুমে এসে সোজা দরজা বন্ধ করে দিলাম। -দাড়াঁও বউমা, বউমা। এটা তুই কি করলি। যাকে তুই বিপদে ফেলতে চেয়েছিলি,সে ই তোর মা কে রক্ত দিয়েছে। এই কথাটা তুই কি করে ভাবলি ছি,ছি -মা’হ এটা আমি কি শুনলাম। এটাও শোনার বাকি ছিল। আমার উপর ওনার এত রাগ যে ওনি আমাকে এভাবে মারতে চেয়েছেন, এত ঘৃণা করে আমাকে। ওহ খোদা। … সারাদিন আর কারোর ডাকে সাড়া দিলাম না। সকালে শুনলাম ওনি ২মাসের জন্য অফিসের কাজে সিংগাপুর যাচ্ছে। ভালোই হয়েছে ওনার চেহারার দিকে তাকাতেই এখন আমার ঘৃণা হচ্ছে। ওনি চলে যাওয়ার পর মা আমার কাছে এলেন -আমার ছেলের এমন মনমানসিকতার জন্য আমি সত্যিই খুব লজ্জিত বউমা -ছি ছি মা আপনি কেন ক্ষমা চাইছেন। আসলে আমার কপালটাই খারাপ আর কি বলব। ২মাস পর… এই দুই মাস সুখে-দুখে কোনো রকমে আমার জীবনটা কেটে গেছে। আজকে ওনি সিংগাপুর থেকে আসছে। ওনাকে আনতে বড় ভাইজান আর কাকা গেছে আর সঙ্গে ঐ অদিতি মেয়েটা। ১ঘন্টা পর ওরা সবাই বাড়ি ফিরে এল। -কিরে ভাইয়া আমার জন্য কি আনলি (তুলি) –

এনেছি এনেছি সবার জন্য এনেছি তারপর ওনি সবাইকে তাদের জন্য আনা জিনিস গুলো দিতে লাগলেন। আমি চলে যেতে চাইলাম, হঠাৎ পেছন থেকে আমার নাম ধরে ডাকল -রুশা দাড়াঁও, এটা তোমার জন্য খুব অবাক লাগছে, এত ভদ্র ভাষা। আমি কিছু বললাম ও না নিলাম ও না চলে গেলাম -রুশা… ৪দিন পর… এই ৪দিনে আমি ও ওনার সাথে কথা বলিনি ওনি নিজেও বলতে চাইনি, অফিস নিয়ে ই ব্যস্ত ছিলেন। -রাজ কোথায় যাচ্ছিস -কেন মা,অফিসে -ওহ তোকে তো বলাই হয়নি, আজ সাথীর গায়ে হলুদ আমাদের সবাইকে সন্ধ্যায় যেতে হবে -সমস্যা নেই তোমরা চলে যেও,আমি সোজা অফিস থেকে ওখানে চলে যাবো। আর কোনো সমস্যা হলে ফোন তো আছেই -আচ্ছা ঠিকাছে আস্তে আস্তে সন্ধ্যা হয়ে গেল। সবাই যাওয়ার জন্য তৈরী হয়ে গেল। -বউমা তুমি এখনো রেডি হওনি, যাও রেডি হয়ে নাও -না মা আমি যাবোনা -কেন -শুনুন মা আমি যদি যায় তাহলে অনেকেরই সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া আমি গেলে ওনিও অস্বস্তি বোধ করবেন, নানান জন নানান কথা জিজ্ঞেস করবেন,তাই আমার না যাওয়া ভালো -কিন্তু -কোনো কিন্তু নয় মা,আর সময় তো এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। -আচ্ছা ঠিকাছে। আমি কিন্তু তোমাকে মাঝে মধ্যে ফোন করব -ঠিকাছে সবাই চলে গেছে। এখন আমি একা। ভেবেছিলাম আমার মা কে একটা ফোন করব,কিন্তু ঐ দিনের কথা মনে পড়তেই আর দিলাম না। এত বড় বাড়ি আর আমি একদম একা। সোফায় গিয়ে গুটিসুটি মেরে বসলাম। অল্প অল্প ভয় করছে। রুমে যেতে ও ইচ্ছে হচ্ছে না। চোখটা বন্ধ করে রইলাম। হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম রাত ১০টা। হয়ত কেউ কিছু ফেলে গেছে তাই এসেছে। দরজা খোলার সাথে সাথেই দেখলাম রাজবাবু। আরে ওনি বাসায় কেন,অনুষ্ঠানে যায় নি নাকি। আমি চলে আসছিলাম ঠিক তখনি আমার হাত টা ধরলেন -রুশা -হাত ছাড়ুন -নাহ

Hits: 58

Facebook Comments

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!