নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন মৃত শ্রীলেখা মিত্র!

দীর্ঘদিন পরে শ্রীলেখা মিত্র অনস্ক্রিন। সৌজন্যে পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের ছবি ‘রেনবো জেলি’। সদ্য মুক্তি প্রাপ্ত ছবিতে শ্রীলেখার অভিনয় বিভিন্ন মহলে ইতিমধ্যেই প্রশংসিত। সে সব নিয়েই কথা হচ্ছিল। কিন্তু কামালগাজির ফ্ল্যাটে ড্রইংরুমের আড্ডা সিনেমা ছাড়াও অন্য অলি-গলির পাকদণ্ডী ছুঁয়ে ফেলল আপন খেয়ালে। সাক্ষী লাল চা, আখরোট, চিন্তামণি (অভিনেত্রীর পোষ্য)।সেই আড্ডার বেশির ভাগটাই শ্রীলেখার অনুমতি নিয়ে পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করলেন স্বরলিপি ভট্টাচার্য।

‘আপনি তো সেনশুয়াল অভিনেত্রী। সেখান থেকে পরীপিসি করলেন কেন?’ পরীপিসি (‘রেনবো জেলি’তে শ্রীলেখার চরিত্র) তো হিট? (হাসি) সবাই তো ভাল বলছে শুনছি। কিন্তু তবুও রিলিজের এক সপ্তাহের মধ্যেই বেশির ভাগ হল থেকে উঠে গেল ছবিটা। মাত্র দু’টো হলে চলছে এখন।

কেন এটা হল বলে মনে হয়? এই বিজনেস বিষয়টা জানি না। তবে একটা ছবি ধরতে একটু সময় লাগে। আমাদের তো সেই অর্থে কোনও বড় নাম নেই। কোনও স্টার নেই। সে জন্য ওয়ার্ড অফ মাউথ পারবিলিসিটি হয়ে ধরতে সময় লাগে। ইতিমধ্যেই কয়েকটা হলে হাউসফুল ছিল। ছবিটা জাস্ট ধরছিল, তখনই আমাদের ছবি সরিয়ে দেওয়া হল। এতে অনেকের মনে হয়, ছবিটা চলছে না। আদৌ তা নয়। এটা আমার সঙ্গে আগেও হয়েছে। আন্ডারডগদের সঙ্গে এটাই হয়।

আপনার অভিনয় তো ভাল বলছেন সকলে? জানি না। আমাকে তো অদ্ভুত প্রশ্নও করছে অনেকে। যেমন?আপনি তো সেনশুয়াল অভিনেত্রী। সেখান থেকে পরীপিসি করলেন কেন? আরও পড়ুন, ‘রেনবো জেলি দেখে হয়তো ভাববেন আমি আবার জিততে পারি’

কী উত্তর দিচ্ছেন? আরে আমি তো অ্যাক্টর। চরিত্র করব। আমি প্রচুর আটপৌরে রোলও তো করেছি। আর পরীপিসি তো খুব পছন্দের চরিত্র।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম, এখনও নাকি অনেকে ‘রেনবো জেলি’ দেখে বেরিয়ে বলছেন, মহাব্রত… (প্রশ্ন শেষ করতে না দিয়েই) অ্যাবনর্মাল। (উত্তেজিত হয়ে) আরে, মহাব্রত আপনার আমার নর্মালের থেকে বেশি নর্মাল। ওর মধ্যে হয়তো সেই ইংলিমিডিয়াম স্মার্টনেস নেই। কিন্তু ও অনেক বেশি ইন্টেলিজেন্ট, অনেক নর্মাল। ওর কথার সঙ্গে পেরে ওঠা মুশকিল। ওর কথা শুনলে বোঝা যায় ওর শিক্ষা, ওর বাবা-মা ওকে কী ভাবে মানুষ করছে। এই ছবিটায় ওকে খাটিয়েওছে, ও খেটেওছে। আদি গুরুকূল প্রসেসে কাজ করেছে ওরা। মহাব্রতর সঙ্গে কাজ করাটা এক্সপিরিয়েন্স। এর সিংহভাগ কৃতিত্ব সৌকর্যর।

এর পরে আর কী কাজ করছেন? একটা স্ক্রিপ্ট নিয়ে কথা চলছে। কিন্তু এখনই কিছু বলতে পারব না। বড়, ছোট, মেজ, সেজ ডিরেক্টরের কথা বলব না। তবে খুব ভাল একজন ডিরেক্টরের ছবি।

এত প্রশংসা হয়, অথচ সেই তুলনায় এত কম কাজ কেন? অফার পান না? অফার তো কম আসে, সেটা একটা কারণ। আর আমি নিজের খিদেটাও কমিয়ে ফেলেছি।

অফার কম আসে কেন? জানি না। আমাকে নাকি লোকে ভয় পায়, শুনেছি (হাসি)। আমাকে দেখে কি রাগী মনে হয়? জানি না। ফোন করে কাউকে মনে করাই না। কি জানি, আমার যদি কোনও প্রেমিক বা গডফাদার, কোনও পুরুষমানুষ থাকত, তা হলে বোধহয় আরও স্মুদ হত। আমার আর কিছুতেই কিছু যায় আসে না।

কিন্তু এটাই তো আপনার ব্রেড অ্যান্ড বাটার… ঠিকই। এগ্রি করছি। আমার কাজটা এটাই। এটা করেই সারভাইভ করতে হবে। তবে বিজ্ঞাপন, ইভেন্ট, ফিতে কাটা, মাচা শো রয়েছে। এখন লেখালিখি করেও কিছু পয়সা পাচ্ছি। আমাকে না ডাকলে আমি কী করব? আর ডাকলে বলবে মোটা, মানে বডিশেমিং।

Hits: 38

Facebook Comments

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!