ব্রাজিলের সমর্থনে উন্মুক্ত বক্ষে রাস্তায় তরুণীরা! (ছবিতে দেখুন)

69

নিজেদের মাটিতে জার্মানির বিপক্ষে হেরে গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপজয়ী দল ব্রাজিল।

সেই হারকে শক্তিতে রুপান্তরিত করে দারুণভাবে অনুশীলন করে নেইমাররা। তাইতো চলতি বিশ্বকাপে অন্যতম শিরোপার দাবিদার পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নরা।

রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র। দ্বিতীয় ম্যাচে কোস্টারিকার সঙ্গে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য।

তখন ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনিরোর শিরদাঁড়া হিম হয়ে আসছে। বাড়িয়ে দেয়া হলো অতিরিক্ত ৬ মিনিটের খেলা। আর তাতেই বাজিমাত করে দিলেন প্রথমে ফিলিপ কোটিনহো। পরে নেইমার। অমনি সাম্বার দেশ ব্রাজিল নেচে উঠলো।

ব্রাজিলের সমর্থনে উন্মুক্ত বক্ষে রাস্তায় তরুণীরা! (ছবিতে দেখুন)

সাম্বাকে ছাড়িয়ে আরো যেন এক ধাপ এগিয়ে গেল তারা। প্রকাশ্য রাজপথে উন্মুক্ত বক্ষে নেমে পড়লেন যুবতীরা। তাদের শরীরের উপরের অংশে কোনো পোশাক ছিল না। তবে কোনোমতে জাতীয় দলের পতাকার রঙে রাঙানো ছিল। কিন্তু তাতে স্পষ্ট হয়ে ভেসে উঠেছিল শারীরিক গড়ন।

গোল হতেই এমন যুবতীরা গায়ের শার্ট খুলে ছুড়ে ফেলেন দূরে। উন্মাতাল জনতা তখন আনন্দে নাচছে। কারো দিকে কারো ভ্রূক্ষেপ নেই। আগের ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র করায় ব্রাজিল ও দলটির ভক্তদের মধ্যে দেখা দিয়েছিল নানা শঙ্কা।

যদি কোস্টারিকার সঙ্গেও তারা ম্যাচ ড্র করতো তাহলে হিম আতঙ্ক গ্রাস করতো ব্রাজিলকে। কিন্তু ডেডএন্ডে এসে সেই শঙ্কাকে আলোকিত করে ব্রাজিলকে খুশির জোয়ারে ভাসালেন কোটিনহো ও নেইমার। আর ওই দুই গোলের সুবাদে গ্রুপ ই-এর শীর্ষ দল এখন ব্রাজিল।

ব্রাজিলের সমর্থনে উন্মুক্ত বক্ষে রাস্তায় তরুণীরা! (ছবিতে দেখুন)

ওইদিন রিও ডি জেনিরোর রাস্তায় রাস্তায় বসানো হয় জায়ান্ট স্ক্রিন। তাতে দলবেঁধে খেলা দেখতে ঘরছাড়া হন ব্রাজিলিয়ানরা। যুবতীদের অনেকে উন্মুক্ত বক্ষে হলুদ ও সবুজ রঙ রাঙিয়ে নেমে আসেন রাস্তায়। মুহূর্তে মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় পাল্টে যায় রাজপথ। সাম্বার ব্রাজিল যেন কার্নিভাল বা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

অন্য এক মাঠে ব্রাজিলের কাছে হারল আর্জেন্টিনা!

ফুটবল জ্বরে যখন কাঁপছে গোটা বিশ্ব, তখন পিছিয়ে নেই সুন্দরবনও। বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা এতটাই যে, প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকার নারীরা সংসারের কাজকর্ম ফেলে বল পায়ে নেমে পড়েছেন মাঠে। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে আদৌ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দল মুখোমুখি হবে কিনা জানেন না কেউই।

তবে জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার অন্তর্গত বড়িয়া এলাকার গুমগড় শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের নারী সমর্থকদের মধ্যে একটি ম্যাচ হয়। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচ ড্র হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ২-১ গোলে জেতে ব্রাজিল। এই খেলা ঘিরে দর্শকদের ভিড় ও ছিল চোখে পড়ার মতো।

কথায় আছে, যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন। আর এই প্রবাদকে আরও একবার প্রমাণ করলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের মা ও মেয়েরা।

মেসি, নেমারদের জার্সি গায়ে এই এলাকার মা বোনেরাই বল পায়ে মাতালেন ফুটবল মাঠ। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকদের মধ্যে জোর লড়াইয়ে টান টান উত্তেজনার মধ্যে কাটল বেশ কিছুক্ষণ। বিয়ের আগে দু-একজন টুকটাক ফুটবল খেললেও বিয়ের পরে সেভাবে সুযোগ পাননি। কিন্তু ফুটবলের প্রতি তাঁদের যে অদম্য ভালবাসা তা এদিন আরও একবার প্রমাণিত হল।

জামাইষষ্ঠীর দিনে এলাকার মেয়েরা বাপেরবাড়ি ফিরেছেন। আর সেই আনন্দেই পুরনো খেলার সঙ্গীদের এক সঙ্গে পেয়ে বল পায়ে মাঠে নেমে পড়লেন অনেকেই।  আর ফুটবলপ্রেমী মানেই সেখানে থাকবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থক।  তাই একদিকে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসি ভক্তরা নেমে পড়লেন মাঠে। অন্যদিকে হলুদ জার্সিতে নামলেন ব্রাজিলের সাপোর্টাররা।

১৫ মিনিটের নির্দিষ্ট সময়ে একে অন্যকে জমি  ছাড়েননি দুই দলের মহিলারা। ম্যাচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন আট থেকে আশি সকলেই। অবশেষে পেনাল্টির মাধ্যমে ২-১ গোলে জেতে ব্রাজিল দল। ফুটবল পায়ে মাঠে নামতে পেরে খুশি সকলেই। সকলেরই এক কথা, “ফুটবলকে ভালবাসি। তাই মাঠে নেমেছি।”

ফুটবলের প্রতি ভালবাসার জন্যই কাঠফাটা গরমকে পাত্তা না দিয়েই মাঠে নামেন নারীরা। জামাইষষ্ঠী আর ফুটবলের মেলবন্ধনে তাই আরও একবার বলতে হয় “সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল”।

সূত্র: এবেলা

Hits: 49

Facebook Comments