ভুয়া বিয়ে করে শারীরিক সম্পর্ক, অতঃপর…

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের সরোয়ার মাতবরের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে কণিকা আক্তার। কলেজে পড়ার সময় একই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা উপজেলার পল্লীবেড়া গ্রামের শফিউদ্দিন মাতবরের ছেলে আমানুর ইসলামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

পরিবারের সদস্যরা তাদের বিয়েতে রাজি না হলে প্রেমিক তার কয়েক বন্ধুকে সঙ্গে করে প্রেমিকাকে নিয়ে গত ৩ মার্চ স্থানীয় কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে বিয়ে ও কাবিন করার নাটক করে। এরপর থেকে তারা স্বামী স্ত্রীর মত বিভিন্ন বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে থাকতে শুরু করে এবন শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় তারা।

এক পর্যায়ে কণিকা তাকে তার শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যেতে স্বামী আমানুরকে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু আমানুর কণিকাকে তার বাড়িতে না তুলে নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে নিয়ে এবাড়ি-ওবাড়ি ঘুরতে থাকে। তবুও কণিকা বার বার তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে তাকে শ্বশুর বাড়ি নিতে বললে আমানুর তার সঙ্গে নানা দুর্ব্যবহার, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় কণিকা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং কিছুদিন পর সে বাবার বাড়িতে ফিরে যায়। এর পর থেকে আমানুর মোবাইল ফোন ও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

কণিকা আরো জানান, সম্প্রতি আমানুর তার কয়েকজন বন্ধু নিয়ে আমার বাড়িতে এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এরপর থেকে আমানুর সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

ওই তরুণীর নানা আব্দুল হক হাওলাদার বলেন, এ ঘটনা নিয়ে বেশ কয়েকবার পল্লীবেড়া গ্রামে আমানুরের বাড়িতে স্থানীয় বাদল মাতবর, হাসমত মিয়া, মতিন সরদার, রাজন হাওলাদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে ভাঙ্গা থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

কাউলিবেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাৎ দুদু মিয়া বলেন, দুই পরিবারকে সামাজিকভাবে মীমাংসার পরামর্শ দিয়ে বলেছি মীমাংসা না হলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিরাজ হোসেন বলেন, ওই তরুণীর বাবা অভিযোগ দিয়েছে। তবে যেহেতু ছেলে মেয়ে উভয়ে পরিণত বয়সের। তাই বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে বিষয়টির সমাধান না হলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Hits: 34

Facebook Comments

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!